রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এবার সেই পরিবর্তনের ছাপ দেখা গেল নবান্ন চত্বরে। দীর্ঘদিনের নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে নবান্নের একাংশে গেরুয়া ও সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া শুরু হয়েছে। ফলে জোর জল্পনা, রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতরের রঙেই কি এবার বড়সড় বদল আসতে চলেছে?
সূত্রের খবর, আপাতত নবান্ন সভাগৃহে পরীক্ষামূলকভাবে গেরুয়া-সাদা রঙ করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত গোটা নবান্ন ভবনের রং পরিবর্তনের জন্য পূর্ত দফতরের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক দরপত্র জারি হয়নি। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন রঙের সামগ্রিক প্রভাব কেমন হয় তা পর্যবেক্ষণের পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
যদি নবান্নের রং বদলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে অন্যান্য সরকারি ভবনেও। নিউ সেক্রেটারিয়েট, খাদ্য ভবন, বিকাশ ভবন, পঞ্চায়েত ভবন-সহ একাধিক প্রশাসনিক দফতরের ভবনের রং পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি।
উল্লেখ্য, একসময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল রাইটার্স বিল্ডিং। সেই ঐতিহাসিক ভবনের পরিচিত রং ছিল লাল। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসনিক সদর দফতর স্থানান্তরিত হয় হাওড়ার নবান্নে। তখন থেকেই নবান্ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ভবন নীল-সাদা রঙে সেজে ওঠে। শুধু ভবন নয়, রাস্তার ডিভাইডার থেকে শুরু করে নানা সরকারি অবকাঠামোতেও নীল-সাদার ছাপ দেখা গিয়েছিল।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই রঙের ঐতিহ্য বদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক ভবনের রংও কি নতুন পরিচয় পেতে চলেছে, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।


