দুই ম্যাচে দুই দাপুটে জয়। পাকিস্তানের পর এবার নেদারল্যান্ডসকেও কার্যত উড়িয়ে দিল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। তবে এই জয় শুধু দুই পয়েন্টের নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাসও লিখল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ব্যাট হাতে রানের পাহাড় গড়ার পর বল হাতে ডাচদের গুটিয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির বার্তা স্পষ্ট করে দিল উইমেন ইন ব্লু।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামলেও ভারতীয় ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেন স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা। নেদারল্যান্ডসের বোলারদের এক মুহূর্তও স্বস্তি নিতে দেননি দুই ওপেনার। পাওয়ারপ্লে থেকেই শুরু হয় বাউন্ডারির বন্যা।
বিশেষ করে স্মৃতির ব্যাটে ছিল অন্যরকম ছন্দ। পাকিস্তান ম্যাচের ফর্ম ধরে রেখে তিনি মাত্র ৪৭ বলে ৭৪ রান করেন। একসময় শতরানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বড় শট খেলতে গিয়ে থামতে হয় তাঁকে। অন্যদিকে শেফালিও কম যাননি। ৩৮ বলে ৫৫ রান করে দলের রানতোলার গতি আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। দু’জনে মিলে ১১৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ভারতের বিশাল স্কোরের ভিত তৈরি করেন।
এরপর মিডল অর্ডারের ব্যাটাররাও গতি বজায় রাখেন। ফলস্বরূপ নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৯ রান তোলে ভারত। মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ২০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করল ভারতীয় দল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলগত স্কোরগুলির তালিকাতেও জায়গা করে নেয় তারা।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নেদারল্যান্ডস। ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে কোনও পরিকল্পনাই কাজে লাগেনি ডাচ ব্যাটারদের। শ্রী চরণীর ঘূর্ণিতে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খায় প্রতিপক্ষ। তিনি চার উইকেট তুলে ম্যাচকে একতরফা করে দেন। শেফালি ব্যাটের পর বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন। দীপ্তি শর্মাও সাফল্যের তালিকায় নাম লেখান।
নেদারল্যান্ডসের হয়ে অধিনায়ক বাবেতে ডি’লিড কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।
তবে ম্যাচ শেষে ভারতীয় শিবিরে খানিক উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। স্পিনার শ্রেয়াঙ্কা পাটিল বোলিং করতে এসে চোট পান এবং মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নজর থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের।


