শেফালির ঝড়, রাধার ঘূর্ণি! বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ভারত

Spread the love

বিশ্বকাপে টানা দুই জয়ের পর হারের ধাক্কা। ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ভারতের কাছে কার্যত ‘করো বা মরো’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় উতরে গেল হরমনপ্রীত কৌরের দল। শেফালি বর্মার ঝকঝকে অর্ধশতরান এবং রাধা যাদবের দুরন্ত স্পিনে ভর করে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল ভারত।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুতেই দিলারা আখতারকে ফিরিয়ে ভারতের সাফল্যের সূচনা করেন রেনুকা সিং। তবে এরপর জৌরিয়া ফিরদৌস ও শোভনা মোস্তারি ইনিংস সামাল দেন। ফিরদৌস ৩৩ ও শোভনা ২২ রান করেন। মাঝের ওভারে অধিনায়ক নিগার সুলতানাও ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

একসময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০৬/৪। দেখে মনে হচ্ছিল ১৫০-এর কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে তারা। কিন্তু শেষের দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রাধা যাদব। তাঁর স্পিনের সামনে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশের ব্যাটিং। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রানেই থামে পদ্মাপারের দল। রাধা ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট।

১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। স্মৃতি মন্দানা দ্রুত আউট হলেও শেফালি বর্মা নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ৩ ওভারে ভারতের স্কোর পৌঁছে যায় ৩১-এ। ইয়াস্তিকা ভাটিয়াকে সঙ্গে নিয়ে রান তোলার গতি ধরে রাখেন শেফালি।

৮টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে শেফালি আউট হওয়ার পর অবশ্য কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। রানের গতি কমে যায়, পাশাপাশি উইকেটও পড়তে থাকে। রিচা ঘোষ ফেরার পর বাংলাদেশের শিবিরে ক্ষীণ আশার আলোও দেখা দেয়।

কিন্তু সেই সম্ভাবনা দ্রুত শেষ করে দেন জেমাইমা রডরিগেজ। সঞ্জিদার এক ওভারে একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ম্যাচের রাশ ভারতের হাতে তুলে দেন তিনি। ২৬ রান করে জেমাইমা আউট হলেও তখন জয়ের জন্য খুব বেশি কিছু করার ছিল না বাংলাদেশের।

শেষ পর্যন্ত ১৯ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় ভারত। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে এই জয় যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন পরের ম্যাচগুলোর দিকেই তাকিয়ে হরমনপ্রীতদের শিবির।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *