তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সি জোসেফ বিজয়ের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে ১৭ আগস্ট। এর মধ্যেই তাঁর সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। সেই আবহেই বিজয়ের ১০০ দিন পূর্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নীরব থাকলেন দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত।
মঙ্গলবার হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে দেখা যায় রজনীকান্তকে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় কয়েকজন সাংবাদিক তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের মধ্যে একজন বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১০০ দিন পূর্ণ করা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তবে কোনও মন্তব্য না করে শুধু হাসেন রজনীকান্ত। এরপর গাড়িতে উঠে চলে যান।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয়ের সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। আভিনের দুধ সংগ্রহের দাম বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো থেকে শুরু করে বিধায়কদের সরকারি গাড়ি ও মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত—প্রথম ১০০ দিনেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে তাঁর সরকার।
প্রতিটি বিধায়ককে সরকারি গাড়ির পাশাপাশি মাসে ১ লক্ষ টাকার প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ হাজার টাকা জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের খরচ এবং ২৫ হাজার টাকা অফিসের সহায়কের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ডিএমকে। তাদের বক্তব্য, যেসব বিধায়কের নিজেদের গাড়ি রয়েছে, তাঁদের এই সুবিধার আওতায় রাখা উচিত নয়।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছে বিজয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর Comprehensive Health Insurance Scheme-এর আওতায় বার্ষিক স্বাস্থ্যবিমার কভারেজ ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আগের ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির ফাইল’ খোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিজয়। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম ১০০ দিন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও যথেষ্ট।
এই পরিস্থিতিতে রজনীকান্তের নীরবতা নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। এর আগে বিজয়ের নির্বাচনী জয়ের পর রজনীকান্ত তাঁর ফলাফলে খুশি নন—এমন নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে চেন্নাইয়ের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সেই জল্পনা খারিজ করার চেষ্টা করেন তিনি। রজনীকান্ত জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং তাঁরা বন্ধু।
জুন মাসে নিজের আগামী ছবি ‘ধর্মন’-এর টাইটেল প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য নিয়েও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছিলেন রজনীকান্ত। তাঁর কথায়, তিনি যা-ই বলেন, তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তিনি কথা বললেও সমালোচনা, চুপ থাকলেও কটাক্ষ—দুই পরিস্থিতিই সামলাতে হয় তাঁকে।
বিজয়ের ১০০ দিন পূর্তির প্রশ্নে বিমানবন্দরে রজনীকান্তের সেই নীরবতাই এখন ফের আলোচনার কেন্দ্রে।


