লন্ডনে বিজয়ের রেস-দৌড়, বিনিয়োগ কোথায়? ‘প্লেজার ট্যুর’ কটাক্ষে উত্তাল তামিলনাড়ু

Spread the love

লন্ডন সফরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি বিনিয়োগ টানা। কিন্তু সফর ঘিরে এখন বিনিয়োগের চেয়ে রাজনৈতিক তরজাই বেশি চর্চায়। সিলভারস্টোনে মোটর রেসিং ইভেন্টে বিজয়ের উপস্থিতি সামনে আসতেই বিরোধীদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন উঠছে, বিদেশ সফরটি আদৌ কতটা বিনিয়োগ-কেন্দ্রিক ছিল?

তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি নাইনার নাগেন্দ্রন একেবারে সরাসরি সফরটিকে ‘প্লেজার ট্যুর’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজয় সরকার যে বিনিয়োগের সাফল্যের কথা তুলে ধরছে, তার সবটাই নতুন নয়। আগে থেকেই তামিলনাড়ুতে ব্যবসা করা সংস্থাগুলির সম্প্রসারণকেও নতুন বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

ডিএমকের মুখপত্র ‘মুরাসোলি’ও একই ইস্যুতে বিজয় সরকারকে বিঁধেছে। তাদের বক্তব্য, শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের বদলে সিলভারস্টোনের রেসই সফরের সবচেয়ে দৃশ্যমান কর্মসূচি হয়ে উঠেছে। অভিনেতা অজিত কুমারের অংশ নেওয়া রেসে বিজয়ের উপস্থিতি এবং অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণনের উপস্থিতি নিয়েও সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

বিরোধীদের প্রশ্নের তালিকাও দীর্ঘ। এত বড় বিনিয়োগ-সফরে শিল্প দফতরের মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সফরের খরচ কোথা থেকে এল, সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, আর লন্ডন থেকে বাস্তবে কতটা নতুন বিনিয়োগ এল—তার স্বচ্ছ হিসাব চাওয়া হয়েছে।

শুধু বিরোধীরাই নয়, সরকারের ঘোষিত বিনিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক পি. শানমুগম। সরকারের ₹১ লক্ষ কোটির বেশি বিনিয়োগের দাবির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করে শ্বেতপত্র আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে আক্রমণের জবাব দিতে পিছিয়ে নেই বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম। টিভিকে-র দাবি, লন্ডন সফরে প্রায় ₹১৫,৩০০ কোটি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। EY এবং সমবর্তনা মাদারসন-সহ একাধিক সংস্থার সঙ্গে MoU ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির কথাও তুলে ধরেছে দলটি। তাদের দাবি, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে কয়েক হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রেসিং নিয়েও টিভিকে-র পাল্টা যুক্তি রয়েছে। দলের বক্তব্য, সিলভারস্টোন সফর নিছক বিনোদনের জন্য নয়। চেন্নাইয়ের কাছে প্রস্তাবিত মোটর স্পোর্টস সিটির জন্য ব্রিটেনের এই বিখ্যাত সার্কিটের পরিকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা এবং মডেল সম্পর্কে ধারণা নিতেই সেখানে গিয়েছিলেন বিজয়।

এর পাশাপাশি বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে অতীতের ডিএমকে সরকারের বিদেশ সফর এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এনেছে টিভিকে-র আইটি উইং। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে পূর্ববর্তী সরকারের সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজয়ের সফরে ঘোষিত ₹১৫,৩০০ কোটি বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।

ফলে লন্ডন সফর এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের মঞ্চ। একদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন—ঘোষিত বিনিয়োগের কতটা সত্যিই নতুন এবং কতটা বাস্তবে নামবে। অন্যদিকে টিভিকে-র দাবি—সফরের ফলাফল ইতিমধ্যেই MoU ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত কাগজের চুক্তি কতটা বাস্তব শিল্পপ্রকল্পে বদলায়, সেই হিসাবই ঠিক করবে বিজয়ের লন্ডন সফরের আসল ফল।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *