কখনও তাঁর সংলাপে গর্জে উঠেছে পর্দা, কখনও চোখের এক চাহনিতেই ফুটে উঠেছে হাজার অনুভূতি। সেই শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। ৭৫ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা চলচ্চিত্রজগতে।
নানা পাটেকর শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অভিনয়ের এক আলাদা প্রতিষ্ঠান। তাঁর কণ্ঠস্বর, সংলাপ বলার ভঙ্গি, রাগ, আবেগ কিংবা নীরবতা—সবকিছুতেই ছিল এমন এক গভীরতা, যা দর্শককে পর্দার চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম করে দিত।
‘ক্রান্তিবীর’, ‘পরিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘অব তক ছাপ্পন’ কিংবা ‘ওয়েলকাম’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি রেখে গিয়েছেন নিজের স্বতন্ত্র ছাপ। কোনও চরিত্রকে শুধু অভিনয় করতেন না, যেন নিজের মধ্যে ধারণ করে তাকে জীবন্ত করে তুলতেন।
তাঁর চলে যাওয়া মানে শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়। ভারতীয় সিনেমার এমন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, যেখানে অভিনয়ের জন্য চোখের জল, গলার স্বর কিংবা শরীরী ভাষাই যথেষ্ট ছিল।
আজ পর্দায় তাঁর সেই পরিচিত মুখটি আর নতুন কোনও চরিত্রে দেখা যাবে না। নতুন কোনও সংলাপে শিহরিত হবে না হলভর্তি দর্শক। কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি থেকে যাবে—বারবার ফিরে আসবে পুরনো ছবির পর্দায়, আর মনে করিয়ে দেবে, নানা পাটেকরের মতো অভিনেতারা চলে গেলেও তাঁদের অভিনয় কখনও মরে না।
নানা পাটেকরকে বিদায় জানিয়ে আজ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে একটাই অনুভূতি—
“আপনি চলে গেলেন, কিন্তু পর্দায় আপনার সেই গর্জন আর অভিনয়ের স্মৃতি থেকে যাবে চিরকাল।”


