বয়স যে তাঁর কাছে শুধুই একটা সংখ্যা, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনী। ৭৭ বছর বয়সেও শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটুকু কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা যেন আরও গভীর হয়েছে। এবার নবরাত্রির প্রথম দিনেই দেবী দুর্গার মাহাত্ম্যকে নৃত্যের ছন্দে মঞ্চে তুলে ধরে দর্শকদের মন জয় করলেন অভিনেত্রী।
গত ১১ অক্টোবর ২০২৬, হায়দরাবাদের ক্লাসিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় হেমা মালিনীর জনপ্রিয় নৃত্যনাট্য ‘দুর্গা’। শারদীয়া নবরাত্রির প্রথম দিনে দেবী পার্বতীর সাজে মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি। পৌরাণিক কাহিনির বিভিন্ন দিক নিজের নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন অভিনেত্রী। তাঁর পরিবেশনা দর্শকদের সামনে তুলে ধরে ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
তেলঙ্গানার আগরওয়াল সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আগরা ডান্ডিয়া নবরাত্রি’ উৎসবের অংশ ছিল এই অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে পালিত হয় মহারাজা অগ্রসেন জয়ন্তী। উৎসবের মঞ্চে হেমা মালিনীর এই বিশেষ পরিবেশনা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ভাগ করে নেন অভিনেত্রী। ছবিতে দেবী পার্বতীর সাজে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি ভগবান শিবের ভূমিকায় অভিনয় করা শিল্পীর সঙ্গেও ছবি তুলেছেন তিনি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হেমা জানান, নবরাত্রির প্রথম দিনেই তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় নৃত্যনাট্য ‘দুর্গা’ পরিবেশন করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এমন একটি বিশেষ দিনে মঞ্চে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আশীর্বাদের মতো।
হেমা মালিনী শুধু বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, তিনি একজন প্রশিক্ষিত ভরতনাট্যম শিল্পীও। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশের মঞ্চে তুলে ধরছেন তিনি। বয়স বাড়লেও নাচের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং মঞ্চে উপস্থিতির আকর্ষণ আজও অটুট।
নাচের এই ঐতিহ্য অবশ্য শুধু হেমা মালিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দুই মেয়ে এষা দেওল ও অহনা দেওলও প্রশিক্ষিত ওড়িশি নৃত্যশিল্পী। তিনজনকে একসঙ্গে ‘পরম্পরা’ নামের নৃত্য প্রযোজনায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন দাতব্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি খাজুরাহো নৃত্য উৎসবেও একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা।
৭৭ বছর বয়সেও নৃত্যের ছন্দে যেভাবে নিজেকে মেলে ধরছেন হেমা মালিনী, তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। অভিনয় থেকে শাস্ত্রীয় নৃত্য—নিজের শিল্পীসত্তাকে আজও সমানভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি। নবরাত্রির পবিত্র আবহে তাঁর এই পরিবেশনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, প্রকৃত শিল্পের কোনও বয়স হয় না।


