ভারতীয় ক্রিকেটে তিনি ছিলেন ঈশ্বরতুল্য এক নাম। ব্যাট হাতে জাদু দেখিয়েছেন মাঠে, আর এবার সেই শচীন তেণ্ডুলকরকে নিয়েই তুঙ্গে জল্পনা বিসিসিআইয়ের অন্দরে। বোর্ডের শীর্ষপদে তাঁকে বসানোর ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই। চলতি মাসের শেষেই হওয়ার কথা বোর্ডের নির্বাচন। লোধা কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ বোর্ডের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। বর্তমান সভাপতি রজার বিনির বয়স সেই সীমা ছুঁয়ে ফেলায় তিনি আর প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে নতুন নেতৃত্ব আনার তাগিদ তৈরি হয়েছে বোর্ডে।
বিনির আগে বোর্ড প্রেসিডেন্টের পদে ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে সৌরভের মেয়াদে বোর্ড প্রশাসনে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছিল। তাই এবারও বোর্ড চাইছে এমন এক তারকাকে শীর্ষপদে বসাতে, যিনি ক্রিকেটার হিসেবে যেমন অবিস্মরণীয়, তেমনি প্রশাসক হিসেবেও গ্রহণযোগ্য হবেন। এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসছে শচীনের নাম।
খবর মিলেছে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ নিজেই এই বিষয়ে শচীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির সময় লর্ডসে নাকি তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে বিস্তারিত কথাও হয়। জয় শাহ মনে করেন, বোর্ড প্রেসিডেন্টের আসনে শচীন বসলে দেশীয় ক্রিকেটের ভাবমূর্তি যেমন আরও উজ্জ্বল হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতীয় বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
তবে শচীন এই প্রস্তাবে রাজি হবেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবার মনে। তিনি বর্তমানে বহু বিজ্ঞাপন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হলে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তাঁকে সেই সব চুক্তি ছাড়তে হবে। এতদিন ক্রিকেট প্রশাসনের বাইরে থাকা শচীনের কাছে এটি হবে একেবারে নতুন চ্যালেঞ্জ। যদিও জয় শাহর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো, তাই শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলানোও অসম্ভব নয়।
সব দিক বিচার করলে একটাই বিষয় স্পষ্ট—যদি শচীন দায়িত্ব নিতে সম্মত হন, তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পাবে ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টকে। আর তিনি যদি না রাজি হন, তবে আবারও হেভিওয়েট কোনও বিকল্প খুঁজতে হবে বিসিসিআইকে। ফলে ক্রিকেট দুনিয়ার চোখ এখন কেবল একটাই প্রশ্নে—বোর্ড প্রশাসনে কি সত্যিই প্রবেশ করতে চলেছেন ক্রিকেটের ঈশ্বর?


