সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার আবহেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সৌহার্দ্যের বার্তা দিল ঢাকা। শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র উদ্দেশে ১০০ কেজি আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে প্রবেশ করা আমের চালান বুধবার কলকাতায় পৌঁছে যায়।
প্রথমে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনে আমের চালানটি পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে তা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘আম কূটনীতি’ নতুন নয়। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবছরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আম ও ইলিশ পাঠিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দিতেন।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেছে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন। এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য আম পাঠানো হয়েছিল।
এবার শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আম পাঠানোকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর কয়েকটি মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক নেতা। পাশাপাশি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোকে কেন্দ্র করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। যদিও সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এ বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এই ‘আম কূটনীতি’কে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখার একটি প্রতীকী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।


