ভারতীয় ক্রিকেটে এবার ‘এক ছাতা’, সর্বময় ক্ষমতায় কি ভিভিএস?

Spread the love

ভারতীয় ক্রিকেটে কি আসতে চলেছে বড়সড় সাংগঠনিক বদল? জাতীয় দল, নির্বাচক কমিটি থেকে শুরু করে মহিলা ক্রিকেট এবং দেশের ক্রিকেটীয় পরিকাঠামো—সবকিছুকে কি এবার একটি কেন্দ্রীয় কাঠামোর অধীনে আনার ভাবনা চলছে? ক্রিকেটমহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এমনই এক সম্ভাবনা।

‘ওয়ান আমব্রেলা’ মডেল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ, ভারতীয় ক্রিকেটের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার উপরে থাকবেন একজন কেন্দ্রীয় ক্রিকেট কর্তা। তাঁর কাছেই জবাবদিহি করতে হতে পারে হেড কোচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচক কমিটিকে।

এখনও অবশ্য কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। বোর্ডের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও নেই। তাই আপাতত বিষয়টি আলোচনার পর্যায়েই। তবে এই ভাবনা বাস্তবে রূপ নিলে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রচলিত কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে, তা বলাই যায়।

আর এই সম্ভাব্য ব্যবস্থার সঙ্গে যে নামটি সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে যাচ্ছে, তিনি ভিভিএস লক্ষ্মণ।

ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন তারকা বর্তমানে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের দায়িত্বে। এর আগে তাঁকে জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই জল্পনা আর এগোয়নি।

এবার তাঁর জন্য আরও বড় ভূমিকাই ভাবা হচ্ছে বলে খবর। তৈরি হতে পারে ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট’ ধরনের একটি পদ। সেই পদে বসলে জাতীয় দলের ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্তরের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত থাকবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

অর্থাৎ, জাতীয় দলের হেড কোচ থেকে নির্বাচক কমিটি, মহিলা ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স—সবকিছুর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকবে এক কেন্দ্রীয় কর্তার হাতে।

এই মডেলের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হতে পারে দায়বদ্ধতা এবং সমন্বয় বাড়ানো। বর্তমানে ক্রিকেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ আলাদা কাঠামোয় কাজ করে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্বের সীমারেখা আরও স্পষ্ট হতে পারে। একইসঙ্গে কোচ, নির্বাচক এবং বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবধানও কমানোর চেষ্টা হতে পারে।

আর এই জায়গাতেই ভিভিএস লক্ষ্মণের অভিজ্ঞতা তাঁকে এগিয়ে দিতে পারে। ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ার তো রয়েছেই, পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটের কোচিং ও উন্নয়নমূলক পরিকাঠামোর সঙ্গেও তিনি যুক্ত থেকেছেন। ফলে মাঠের ক্রিকেট এবং ক্রিকেট প্রশাসনের কাজ—দুই দিকের অভিজ্ঞতাই তাঁর রয়েছে।

তবে আপাতত সবটাই সম্ভাবনা। ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট’ পদ আদৌ তৈরি হবে কি না, হলে তার ক্ষমতার পরিধি কতটা হবে, আর সেই দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত লক্ষ্মণের হাতেই যাবে কি না—কোনও প্রশ্নেরই চূড়ান্ত উত্তর নেই।

তবু একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। আর সেই সম্ভাব্য বদলের কেন্দ্রে যদি সত্যিই ভিভিএস লক্ষ্মণকে আনা হয়, তাহলে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে তা নিঃসন্দেহে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *