মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই এবার নিজের সরকারের সামনে আরও বড় লক্ষ্য বেঁধে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এক বছর পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৯ মে, নিজের কাজের হিসাব দিতে সরাসরি বাংলার মানুষের সামনে পরীক্ষায় বসবেন তিনি। আর সেই পরীক্ষায় ১০-এর মধ্যে ৯ নম্বর না পেলে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুরুলিয়ায় জাইকা জল প্রকল্পের উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর বার্তা, “২০২৭ সালের ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার এক বছর পূর্ণ হবে। সেদিন আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব। আপনারাই আমাকে নম্বর দেবেন। যদি ১০-এর মধ্যে ৯ না পাই, তাহলে ক্ষমা স্বীকার করে নেব। মেনে নেব, আমি পারলাম না।”
তবে শুধু আত্মসমালোচনার কথা নয়, মানুষের উপর ভরসা রেখেই আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সরকারকে একটু সময় দিলে এক বছর পর বাংলার মানুষই বলবেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। এখন তাঁর লক্ষ্য, প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, কাজের হিসাব দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা।
১৮ আগস্ট, মঙ্গলবার ১০০ দিনে পা দিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সেই ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান এবার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী বিজেপি। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’ নামে ৪১ পাতার একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়ে সেই বই সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলীয় নেতৃত্বের।
সরকারের দাবি, এই ১০০ দিনে বিনিয়োগ থেকে প্রশাসনিক সংস্কার, সামাজিক প্রকল্প থেকে মহিলা সুরক্ষা এবং আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে ওই বইয়ে।
এখন ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান সামনে রেখে বাকি ৯ মাসের রোডম্যাপ তৈরি। আর সেই সময় শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ফিরবেন জনতার কাছে—কাজের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে। ২০২৭ সালের ৯ মে বাংলার মানুষই ঠিক করবেন, শুভেন্দু অধিকারীর সরকার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল কি না।


