রাজ্যপাল কি বেপরোয়াভাবে রাজ্যের বিল আটকে রাখতে পারেন? এই প্রশ্ন ঘিরে এবার সরাসরি সংবিধানের ১৪৩ ধারায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরামর্শ চাইলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই মামলাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, কারণ একাধিক রাজ্যে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
মঙ্গলবার, ২২ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে শুনানি। এর জন্য গঠিত হয়েছে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। সঙ্গে থাকবেন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিক্রম নাথ, পিএস নরসিংহ ও এএস চান্দুরকর।
তামিলনাড়ু সরকারের একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই সাংবিধানিক বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, রাজ্যসভায় পাশ হওয়া ১০টি বিল আটকে রাখেন রাজ্যপাল আরএন রবি। পরে সেই বিলগুলি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে মতামত জানাতেই হবে। আর সেই নির্দেশ নিয়েই আপত্তি ওঠে। প্রশ্ন উঠে যায়— আদালত কি রাষ্ট্রপতির উপর সময়সীমা চাপিয়ে দিতে পারে?
এই প্রশ্নের নিষ্পত্তিতেই এবার সুপ্রিম কোর্ট। রাষ্ট্রপতির পাঠানো ১৪ দফা প্রশ্নের উত্তরেই স্পষ্ট হবে— রাজ্যপালের ভূমিকা কতদূর, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমা কোথায়, এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে।
সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, “রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি যদি কোনও যুক্তি ছাড়াই বিল আটকে রাখেন, তা হলে তা সংবিধানের মূল নীতির পরিপন্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি অবমাননা।”
সারাদেশের নজর এখন এই শুনানির দিকে। কারণ শুধু একটি রাজ্য নয়— এই রায়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে, কোনও রাজ্য সরকার তাদের আইনসভায় পাশ হওয়া বিল রাজ্যপালের দরজায় আটকে গিয়ে আর কতটা ‘অচলাবস্থা’র শিকার হবে।


