ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নতুন নজির গড়তে চলেছে নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণা’। ছবিটি নিয়ে দেশীয় সমালোচকদের মতামত একেবারে একরকম না হলেও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা পাচ্ছে এই মহাকাব্যিক প্রযোজনা। এমনকী হলিউডের ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’, ‘দ্য লায়ন কিং’ এবং ‘অ্যাভাটার’-এর মতো ছবির সঙ্গেও তুলনা করছেন বিদেশি চলচ্চিত্র সমালোচকরা। ছবির বিশাল ক্যানভাস, দৃশ্যায়ন এবং গল্প বলার ধরনই তাঁদের নজর কেড়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের চলচ্চিত্র সমালোচক পিটার ব্র্যাডশ ‘রামায়ণা’কে যথেষ্ট উপভোগ্য ছবি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ছবির অসাধারণ দৃশ্য, সূর্যাস্তের মনোরম ক্যানভাস এবং গল্প বলার ধরনে পিটার জ্যাকসনের ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’-এর ছাপ রয়েছে। পাশাপাশি পশুদের রাজ্যের দৃশ্যায়নে ডিজনির ‘দ্য লায়ন কিং’-এর কথাও মনে পড়েছে তাঁর। ভারতীয় সিনেমার গল্প বলার সহজাত শক্তির প্রশংসা করে ছবিটিকে দারুণ অ্যাডভেঞ্চার বলেও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
এদিকে এনওয়াইসি মুভি গুরু-র অ্যাভি অফার ছবির দৃশ্যায়ন, পোশাক ও সেট নির্মাণের প্রশংসা করেছেন। তাঁর চোখে ‘রামায়ণা’ একটি দৃশ্যত চমকপ্রদ অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার। নেক্সট বেস্ট পিকচার-এর জিওভান্নি লাগো অবশ্য ছবিটিকে ১০-এর মধ্যে ৫ নম্বর দিয়েছেন। তবে রাবণের চরিত্রে যশের অভিনয় এবং এ আর রহমান ও হ্যান্স জিমারের সঙ্গীত তাঁর প্রশংসা পেয়েছে।
দ্য উইক-এর সমালোচক সাজিন শ্রিজিথের বক্তব্যও ছবির নির্মাতাদের জন্য যথেষ্ট উৎসাহজনক। তাঁর মতে, বাল্মীকি রামায়ণের মূল ভাবনা ও গল্পের সারবত্তা বজায় রেখে নির্মাতারা এই কঠিন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সামলেছেন। মূল কাহিনির সঙ্গে কিছু সংযোজন থাকলেও ছবিতে রামায়ণের নির্যাস অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
দুই পর্বের ‘রামায়ণা’ তৈরিতে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে আলোচনা চলছে। সেই বিশাল বাজেটের ছবির দৃশ্যায়নে ভার্চুয়াল প্রোডাকশন প্রযুক্তির ব্যবহারও আন্তর্জাতিক সমালোচকদের নজর কেড়েছে। ‘অ্যাভাটার’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে তাঁদের বক্তব্য, হলিউডে এমন ছবি বহুবার তৈরি হলেও ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে এই ধরনের মহাকাব্যিক নির্মাণ এক নতুন অভিজ্ঞতা। বিদেশি সমালোচকদের এই প্রশংসা স্বাভাবিকভাবেই ছবিটিকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে।


