ডেয়ারি প্রকল্পের সাফল্যের পর এবার নতুন উদ্যোগ বিশ্বভারতীর। প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গড়ে তোলা হচ্ছে উন্নত প্রজাতির ছাগল পালন ও গবেষণাকেন্দ্র বা ‘গোট ইউনিট’। পল্লীশিক্ষা ভবনের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প চালু হলে গবেষণার পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের মথুরা থেকে যমুনাপুরি, বারবারি-সহ একাধিক উন্নত জাতের ছাগল আনা হবে। স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম এই প্রজাতিগুলির উৎপাদনশীলতা, স্বাস্থ্য, প্রজনন এবং আধুনিক পালন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালানো হবে। পাশাপাশি পশুপালনকে লাভজনক করে তুলতে কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে।
শুধু ছাগলই নয়, পশুখাদ্যের উন্নত ব্যবস্থার জন্য উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি থেকে বিশেষ ধরনের ঘাস ও খাদ্যশস্যের বীজ আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে কৃষি ও পশুপালনভিত্তিক আরও বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি কর্মসূচি উপলক্ষে রথীন্দ্র কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ও পল্লীশিক্ষা ভবনে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ, রথীন্দ্রনাথ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান সুব্রত মণ্ডল, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহা এবং কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা। শান্তিনিকেতন সংলগ্ন এলাকার শতাধিক কৃষকও ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, বর্তমানে পল্লীশিক্ষা ভবনে সর্বভারতীয় স্তরের কোনও গবেষণা প্রকল্প নেই। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে ডেয়ারি ইউনিটের পাশাপাশি গোট ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং একই সঙ্গে কৃষকদের স্বনির্ভর হওয়ার পথও দেখাবে।
প্রসঙ্গত, শ্রীনিকেতনের গোশালায় উৎপাদিত দুধ ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হোস্টেলে সরবরাহ করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই এবার পশুপালন ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পথে হাঁটছে বিশ্বভারতী।


