রাস্তা নির্মাণের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বাবর আলি। সেই ‘অপরাধেই’ তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রায় দু’বছর পর সেই বহুচর্চিত মামলায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ গোলাম শেখ ও তাঁর ভাই মিঠু শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল লালবাগ ফাস্ট ট্র্যাক দ্বিতীয় আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গোলাম শেখকে ৫০ হাজার টাকা এবং মিঠু শেখকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১৬ আগস্টের। মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার রমনা এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। অভিযোগ, সেই রাস্তার মান নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বাবর আলি। পরিবারের দাবি, ওই প্রতিবাদের জেরেই দুপুরবেলা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
এই ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ গোলাম শেখ, তাঁর ভাই মিঠু শেখ-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার আরও এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। বিচার চলাকালীন অপর দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মেলায় তাঁদের বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
তবে গোলাম শেখ ও মিঠু শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেছে আদালত। সেই ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নিহত বাবর আলির মেয়ে। তিনি বলেন, “রাস্তার গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই বাবাকে খুন করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে আমরা খুশি। তবে এখনও যাঁরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন, তাঁদেরও শাস্তি হলে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার মিলত।”


