টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক আবারও বর্ণবাদ ও অভিবাসন ইস্যুতে বিতর্কের কেন্দ্রে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেন বিশ্বের অন্যতম ধনী এই উদ্যোক্তা। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ টেনে মাস্ক বলেন, তাঁর সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত, তাঁদের চার সন্তান রয়েছে এবং এক সন্তানের মধ্যনাম রাখা হয়েছে নোবেলজয়ী ভারতীয় জ্যোতির্পদার্থবিদ সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের নামে। তাই তাঁকে বর্ণবাদী বলা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মাস্ককে প্রশ্ন করা হয়, কেন অনেক সমালোচক তাঁর কিছু মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলে মনে করেন। উত্তরে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয়। আমাদের চার সন্তান রয়েছে। তাঁদের একজনের নাম রাখা হয়েছে এক বিখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানীর নামে। তাই আমি নিজেকে বর্ণবাদী মনে করি না।”
মাস্কের এই মন্তব্য এসেছে অভিবাসন, বহুসংস্কৃতিবাদ এবং ইউরোপে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে তাঁর আগের বিভিন্ন মন্তব্যের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে। সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর কিছু বক্তব্য অভিবাসনবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহিত করে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে।
মাস্কের সঙ্গী শিভন জিলিস কানাডার প্রযুক্তি নির্বাহী এবং নিউরালিঙ্কের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তাঁর মা ভারতীয় পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত এবং বাবা কানাডীয়। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে কাজ করেন তিনি। ২০১৭ সালে নিউরালিঙ্কে যোগ দেওয়ার পর থেকে সংস্থাটির ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
যে ভারতীয় বিজ্ঞানীর নাম মাস্ক উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন নোবেলজয়ী জ্যোতির্পদার্থবিদ সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর। ১৯১০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে জন্ম নেওয়া চন্দ্রশেখর ১৯৮৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর প্রস্তাবিত ‘চন্দ্রশেখর লিমিট’ আধুনিক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, যা শ্বেত বামন নক্ষত্রের সর্বোচ্চ ভরের সীমা নির্ধারণ করে এবং নিউট্রন তারা ও ব্ল্যাক হোল গঠনের তত্ত্বকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়।
সাক্ষাৎকারে মাস্ক আরও বলেন, তাঁর উদ্বেগ কখনও জাতি বা বর্ণ নিয়ে নয়; বরং জননিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
এছাড়া নিজের প্রতিষ্ঠানের বৈচিত্র্যময় কর্মপরিবেশের কথাও তুলে ধরেন মাস্ক। তাঁর দাবি, টেসলা, স্পেসএক্স, নিউরালিঙ্ক এবং xAI-তে বিভিন্ন জাতি ও নৃতাত্ত্বিক পটভূমির মানুষ নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন। এই বহুমাত্রিক কর্মপরিবেশই প্রমাণ করে যে তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্ণবাদের কোনও স্থান নেই বলে দাবি করেন তিনি।


