রানওয়ে নয়, শিল্পীর স্টুডিও! India Couture Week 2026-এ রাহুল মিশ্রর ‘DEVI’-র অন্যরকম উপস্থাপনা

Spread the love

India Couture Week 2026-এ এবার প্রচলিত ফ্যাশন শোয়ের পথ থেকে একেবারেই সরে গেলেন ডিজাইনার রাহুল মিশ্র। আলাদা করে রানওয়ে তৈরি না করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরলেন একটি কালেকশন কীভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। প্যারিসে আত্মপ্রকাশ করা তাঁর ‘DEVI’ কালেকশন এবার ফিরল ভারতে, সঙ্গে থাকল এমন কিছু পোশাকও, যেগুলি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এরপর একেবারে অন্য আবহে সামনে এল তাঁর নতুন ফেস্টিভ কুটিওর লাইন।

ফলে পুরো আয়োজনটি হয়ে উঠল শুধুমাত্র ফ্যাশন শো নয়, বরং একজন ডিজাইনারের সৃষ্টিশীল ভাবনার এক ঝলক। একই জায়গায় দেখা গেল সম্পূর্ণ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পরীক্ষামূলক ও অসম্পূর্ণ কাজও।

প্যারিস হাই ফ্যাশন উইকে প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল ‘DEVI’। ভারতে সেটিকে ফেরানোর সময় রাহুল বেছে নিলেন এক অভিনব পদ্ধতি। মূল প্যারিস কালেকশনের পোশাকের পাশে রাখা হয় এমন কিছু পরীক্ষামূলক ডিজাইন, যা শেষ পর্যন্ত সেই শোয়ে জায়গা পায়নি। এর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে উঠে এল একটি পোশাকের ভাবনা কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে বদলায় এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে পূর্ণতা পায়।

‘DEVI’-র মূল অনুপ্রেরণা ভারতীয় মন্দিরের ভাস্কর্য। মন্দিরের দেওয়ালে খোদাই করা দেবদেবীর মূর্তি, যেখানে পাথরের ভিতর থেকেই যেন অবয়ব বেরিয়ে আসছে—সেই দৃশ্যকেই কাপড়ের ওপর ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন রাহুল।

কালেকশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভস্মাসুরের পৌরাণিক কাহিনি। বিষ্ণুর মোহিনী রূপের অনুপ্রেরণায় তৈরি সেই ডিজাইনে প্রাচীন ভারতীয় মোটিফ, অনুপাত এবং অলংকরণের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল এমব্রয়ডারির কৌশল। পোশাকে এমনভাবে সূচিকর্ম করা হয়েছে, যাতে দূর থেকে মনে হয় কাপড় নয়, পাথর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে পোশাকটি।

এই বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘একতারকা’ নামে পরিচিত গ্রেডিয়েন্ট এমব্রয়ডারি টেকনিক। সুতোয় ঘনত্ব ও শেডের ধীরে ধীরে পরিবর্তনের মাধ্যমে পোশাকের ওপর তৈরি হয়েছে আলো-ছায়ার গভীরতা। ফলে এমব্রয়ডারি আর শুধুমাত্র অলংকরণ হিসেবে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে ত্রিমাত্রিক ভাস্কর্যের মতো।

ধূসর রঙের একাধিক লুকে সেই প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা পোশাক থেকে শুরু করে কলাম স্কার্ট, হেডপিস এবং অ্যাক্সেসরিজ—সবেতেই ছিল পাথরের ভাস্কর্যের ছাপ। মডেলদের শরীরেও ব্যবহার করা হয়েছিল স্টোন-গ্রে বডি পেইন্ট। দেবীমূর্তির মুখের আদলে তৈরি হেডপিস আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল সেই ভাস্কর্যসুলভ আবহ।

জুয়েলারিও এখানে শুধুই সাজসজ্জার অংশ ছিল না। স্যাফায়ার ও ডায়মন্ড টোনের বেশ কিছু নজরকাড়া অলংকার সরাসরি ধূসর রঙে রাঙানো ত্বকের ওপর ব্যবহার করা হয়। ফলে সেগুলিও যেন কোনও প্রাচীন প্রত্নবস্তুর অংশ বলে মনে হচ্ছিল।

তবে ‘DEVI’ শুধুই ধূসর বা পাথরের আবহে আটকে থাকেনি। কয়েকটি লুকে দেখা গিয়েছে ব্রোঞ্জ ও রাস্ট টোন। ড্রেপড ব্যাক, কোমরে নটেড ডিটেলিং এবং নরম সিলুয়েট সেই অংশে এনে দিয়েছে তুলনামূলকভাবে বেশি পরার মতো অনুভূতি।

এর পাশাপাশি ছিল স্ট্রাকচার্ড ব্ল্যাক গাউন। ভারী বিডওয়ার্ক, ফ্রিঞ্জ হেমলাইন এবং বডিস বরাবর নেকলেসের মতো লেয়ার করা এমব্রয়ডারি সেই লুকগুলিকে দিয়েছে আলাদা নাটকীয়তা।

রাহুল মিশ্রর এই উপস্থাপনা তাই শুধু নতুন পোশাক দেখানোর আয়োজন ছিল না। বরং দর্শকদের সামনে খুলে দেওয়া হয়েছিল একজন ডিজাইনারের চিন্তা, পরীক্ষা, ব্যর্থতা এবং সৃষ্টির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া—যেখানে অসম্পূর্ণতাও হয়ে উঠেছে শিল্পেরই অংশ।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *