‘ড্রোনাচার্য’ থেকে সেমিকন্ডাক্টর, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ভবিষ্যতের ভারতের রূপরেখা মোদির

Spread the love

যুদ্ধক্ষেত্র বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে যুদ্ধের অস্ত্রও। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতকে প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে আধুনিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মুখে শোনা গেল নতুন শব্দ—‘ড্রোনাচার্য’।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। আধুনিক সংঘাতে ড্রোন কীভাবে যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়েছে, তা বোঝাতেই এই প্রসঙ্গ টানেন তিনি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু ভারী অস্ত্র বা বড় সামরিক সরঞ্জামের উপর নির্ভর করবে না। প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই হয়ে উঠবে মূল শক্তি।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দেন মোদি। দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরি থেকে শুরু করে শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতকে সক্ষম করে তোলার কথা বলেন তিনি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ জোর দিয়ে জানান, ভারতকে আর শুধুমাত্র অস্ত্র কেনা দেশ হিসেবে দেখা যাবে না।

তবে শুধু যুদ্ধ নয়, প্রযুক্তির আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সেমিকন্ডাক্টর নিয়েও বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশে ইতিমধ্যেই তিনটি সেমিকন্ডাক্টর প্লান্টের কাজ এগিয়ে চলছে এবং ভারতে তৈরি চিপ বিদেশেও যাচ্ছে। আগামী দিনে আরও পাঁচটি প্লান্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

শক্তিক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যের কথা শোনান মোদি। আগামী দিনে পাঁচটি নতুন পরমাণু চুল্লি তৈরি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা জানান তিনি।

সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদির বার্তার কেন্দ্রে ছিল একটাই বিষয়—নিজের প্রযুক্তি, নিজের প্রতিরক্ষা এবং নিজের শক্তির উপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের ভারত তৈরি করা। তাঁর কথায়, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *