ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক জীবনে বড় মাইলফলক। সরকারের শীর্ষ পদে তাঁর ২৫ বছরের পথচলা পূর্ণ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা এসেছে। ভুটান থেকে জাপান, বেলজিয়াম থেকে ডোমিনিকা, নাইজেরিয়া—একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ভারতের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রভাব বৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন।
তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বার্তা। মোদীকে নিয়ে তাঁর একটি পুরনো মন্তব্য নতুন করে সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তোবগে তাঁকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে সেই মন্তব্য নিয়ে ফের ভাবতে গিয়ে তাঁর উপলব্ধি হয়, তিনি সম্ভবত বিষ্ণুর শেষ অবতার ‘কল্কি’র কথাই বলেছিলেন।
টোবগে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মার্চে মোদীর সঙ্গে ফের দেখা হলে তিনি নিজের সেই উপলব্ধির কথা জানান। তাঁর ব্যাখ্যায়, কল্কি এমন এক অবতার, যাঁর সঙ্গে অশান্তির অবসান, ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নতুন যুগের সূচনার ধারণা জড়িয়ে রয়েছে।
শুধু এই মন্তব্যেই থামেননি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, একটি উন্নত ভবিষ্যতের স্পষ্ট লক্ষ্য দেখানোই নেতৃত্বের অন্যতম বড় শক্তি। তাঁর মতে, মোদী ভারতকে শুধু একটি গন্তব্য দেখাননি, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশবাসীকেও অনুপ্রাণিত করেছেন।
ভারত-ভুটান সম্পর্কের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তোবগে। তাঁর বক্তব্য, ভারত যত শক্তিশালী হবে, ভুটানও ততটাই শক্তিশালী হবে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদীর প্রথম বিদেশ সফর ছিল ভুটানে। সেই সফরের প্রসঙ্গ টেনে তোবগে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘B4B’—অর্থাৎ ‘ভারত ভুটানের জন্য, ভুটান ভারতের জন্য’—ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারও মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি—সরকারের শীর্ষে তাঁর ২৫ বছরের ধারাবাহিক নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি তাঁর ভারত সফরের প্রসঙ্গ তুলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করেছেন। ভারতের সমাজ ও দেশের উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করে মোদীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ভারত সফরের সময় মোদীর আতিথেয়তার কথাও স্মরণ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
২০২৭ সালে ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। সেই উপলক্ষে দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দিয়েছেন তাকাইচি।
অন্যদিকে, ডোমিনিকার প্রধানমন্ত্রী রুজভেল্ট স্কেরিট মোদীকে ‘আমার প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। ভারতের সঙ্গে ডোমিনিকার বন্ধুত্ব এবং সে দেশের মানুষের প্রতি ভারতের সহযোগিতার প্রশংসা করে মোদীর সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবুও মোদীর ২৫ বছরের সরকারি নেতৃত্বের এই বিশেষ মাইলফলক উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, মোদীর ২৫ বছরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই মাইলফলক শুধু ভারতের রাজনৈতিক পরিসরেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আর ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ‘বিষ্ণুর অবতার’ থেকে ‘কল্কি’ হয়ে ওঠার মন্তব্যই এই অভিনন্দনপর্বে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


