কখনও খবরের পর্দায় তাঁর কণ্ঠ শুনে মনে হত, খুব আপন কেউ বুঝি খবরটা জানাচ্ছেন। শব্দের উচ্চারণে ছিল স্পষ্টতা, কথায় ছিল সাবলীলতা, আর উপস্থাপনায় ছিল এক অদ্ভুত মায়া। সেই পরিচিত কণ্ঠ আজ চিরতরে স্তব্ধ। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বাংলা সংবাদজগতের পরিচিত মুখ পাপিয়া সিংহ।
বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন পাপিয়া। একের পর এক চিকিৎসা, ১২টি কেমোথেরাপি—শরীর ভেঙে পড়লেও লড়াই থামাননি তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালেই আচমকা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। তারপর আর ফেরানো গেল না তাঁকে।
দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশনের পর্দায় সঞ্চালিকা ও সংবাদপাঠিকা হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন পাপিয়া। তাঁর বাংলা উচ্চারণের স্বচ্ছতা, শব্দের প্রতি যত্ন এবং সাবলীল বলার ধরন দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। শুধু সংবাদপাঠ নয়, আবৃত্তিতেও তাঁর কণ্ঠ ছিল সমান প্রাণবন্ত।
তাঁকে কাছ থেকে চেনেন যাঁরা, তাঁদের কাছে পাপিয়া ছিলেন প্রাণখোলা, হাসিখুশি এবং খেতে ভালোবাসা এক মানুষ। অসুস্থতার কঠিন সময়েও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কেমোথেরাপির ধকল ক্রমশ শরীরকে দুর্বল করে দিচ্ছিল। তবুও লড়াই চলছিল।
কেউ হয়তো ভাবেনি, আজই সেই লড়াই শেষ হয়ে যাবে।
যে কণ্ঠ এত বছর ধরে অসংখ্য মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে খবর, সেই কণ্ঠটাই আজ আর শোনা যাবে না। পর্দায় হয়তো একদিন আবার লেখা থাকবে—‘বিরতির পরে ফিরছি’। কিন্তু পাপিয়ার ক্ষেত্রে সেই ফেরা আর হবে না।


