‘আসল তৃণমূল’ বিতর্কে ঋতব্রত শিবিরকে স্বস্তি, ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় বাড়াল নির্বাচন কমিশন

Spread the love

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত সাংগঠনিক অধিকার কার হাতে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে শুরু হওয়া আইনি টানাপোড়েন এখনই শেষ হচ্ছে না। বরং দুই পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখতে আরও কিছুটা সময় নিচ্ছে কমিশন। সেই কারণেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত নিজেদের দাবি-সমর্থিত নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ছিল কমিশনের বেঁধে দেওয়া শেষ দিন। নির্দেশ ছিল, বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই লিখিত জবাব এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। সেই সময়সীমার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির কমিশনের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। সূত্রের দাবি, তাদের জবাবে ঋতব্রত শিবিরের প্রতিটি দাবির বিরোধিতা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নথি জমা দিতে না পারায় ঋতব্রত শিবির কমিশনের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানায়। সেই আবেদন গ্রহণ করে ই-মেলের মাধ্যমে কমিশন জানিয়ে দেয়, ১০ জুলাই পর্যন্ত নথি জমা দেওয়া যাবে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে। তখন নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই নোটিস পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিল, দলের উপর নিজেদের দাবির সাংগঠনিক ও আইনি ভিত্তি কী। সংগঠনগত নির্বাচন, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং দলের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য-প্রমাণও চাওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য রেখেছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি দল। সেই শুনানি নিয়েই আপত্তি তুলেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। তাদের অভিযোগ ছিল, স্বীকৃত দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধির বাইরে অন্য একটি গোষ্ঠীকে শুনানির সুযোগ দেওয়া কমিশনের প্রচলিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এখন ঋতব্রত শিবিরের নথি জমা পড়ার অপেক্ষায় কমিশন। এরপর দুই পক্ষের দাবি, পাল্টা দাবি এবং সমস্ত নথি পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে তৃণমূলের প্রতীক, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং ‘আসল তৃণমূল’ প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য রাজনৈতিক মহলকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *