ইন্দোনেশিয়ার সংসদে মোদির বার্তা, ‘আধিপত্য নয়, উন্নয়নই ভারতের পথ’

Spread the love

ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার বার্তা নিয়ে মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখা। দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে কৌশলগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শুরুতেই মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় নয়, সভ্যতারও। তিনি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুই দেশের সংস্কৃতি একে অপরকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই ‘গঙ্গা-মাকাম ভিশন’-এর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জন-জনের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন মোদি। কোনও দেশের নাম না করেই তিনি বলেন, ভারতের নীতি উন্নয়ন, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের। আধিপত্য বিস্তার বা চাপ সৃষ্টি ভারতের কূটনৈতিক দর্শনের অংশ নয়। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি।

সন্ত্রাসবাদ, সাইবার অপরাধ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের মতো ক্ষেত্রে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দুই দেশের অংশীদারিত্ব শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, সমগ্র ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ভারতের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও বিশেষভাবে উঠে আসে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও ইন্দোনেশিয়ার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে আজও রামায়ণ ও মহাভারতের গভীর প্রভাব রয়েছে। সরকারি বিমান সংস্থার নাম ‘গরুড় ইন্দোনেশিয়া’, রাজধানী জাকার্তার অন্যতম আকর্ষণ শ্রীকৃষ্ণ-অর্জুনের রথের বিশাল ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন সামরিক প্রতীকেও হিন্দু পুরাণের ছাপ স্পষ্ট। সেই ঐতিহাসিক বন্ধনের কথাই নিজের ভাষণে তুলে ধরেন মোদি।

এই সফরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বিরল খনিজ, ওষুধ, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতাসহ একাধিক ক্ষেত্রে প্রায় এক ডজন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। দুই দেশই আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *