নির্বাচন ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ। শহরের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র মিলেনিয়াম পার্ক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং জেটিও। ফলে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সম্প্রতি স্ট্র্যান্ড রোডে স্থানান্তরিত হয়েছে। সেই কারণে নিরাপত্তা জোরদার করতে ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। কোনওরকম অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই কড়া পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মার্চ। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিইও দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ তোলেন, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এরপর ৩১ মার্চ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সেখানে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিজেপির এক নেতা বিপুল সংখ্যক ফর্ম নিয়ে দপ্তরে ঢোকার চেষ্টা করলে শাসকদলের কর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, স্লোগানবাজি ও ভাঙচুর। সিইও দপ্তরের সামনে উত্তেজনা চরমে ওঠে, একাধিক বাইক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতিমধ্যে সরকারি কাজে বাধা, বেআইনি জমায়েত-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর থেকেই সতর্ক প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। তারই অংশ হিসেবে মিলেনিয়াম পার্ক ও শিপিং জেটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিপিং জেটি হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই জলপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। ফলে হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং কবে পুনরায় পরিষেবা চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা দেয়নি প্রশাসন।


