স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর। আর সেই ভাষণেই একসঙ্গে উঠে এল দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, অপারেশন সিঁদুর, সন্ত্রাসবাদ, নকশালমুক্ত ভারত থেকে ‘মিশন ২০৪৭’। বক্তব্যের শুরুতেই ছিল বিশেষ মুহূর্ত। রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এই প্রথম বাজল ‘বন্দে মাতরম’। এরপর শোনা যায় ‘জন গণ মন’।
সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার কথাও এড়িয়ে যাননি রাষ্ট্রপতি। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার উপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বার্তা, মানুষের কথা শুনতে হবে এবং কোনও মানুষকে যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।
এরপরই দেশের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, জঙ্গি এবং তাদের মদতদাতারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই আশ্রয় নিক, তাদের পরিণতি ভোগ করতেই হবে। অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখ করে তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার সক্ষমতা ও শক্তির স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছে এই অভিযান। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের অবস্থান যে আপসহীন, সেই বার্তাও দেন তিনি। ভারতীয় সেনাকে কুর্নিশ জানান রাষ্ট্রপতি।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নকশালমুক্ত ভারতের প্রসঙ্গ। একই সঙ্গে দারিদ্র্য হ্রাস এবং মহিলাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের উন্নয়ন যেন কেবল কয়েকটি শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছনো জরুরি—এই বার্তাই স্পষ্ট করেন রাষ্ট্রপতি।
‘মিশন ২০৪৭’-এর লক্ষ্য নিয়েও দেশবাসীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখান রাষ্ট্রপতি। বিকশিত ভারত গড়ার পথে কৃষক, পড়ুয়া, শিল্পী, সমাজকর্মী, সাফাই কর্মী থেকে শুরু করে সেনা ও পুলিশ—প্রত্যেকের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রবাসী ভারতীয়দের অবদানেরও প্রশংসা করেন।
ভাষণে জায়গা পায় ১৪ অগস্টের ‘বিভাজন বিভীষিকা দিবস’-ও। দেশভাগের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই যন্ত্রণা সত্ত্বেও মানুষ নিজেদের শিকড় ও পরিচয় আঁকড়ে রেখেছিলেন।
স্বাধীনতার প্রতীক তেরঙ্গার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতির স্পষ্ট বার্তা, শুধু স্বাধীনতা অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। দেশকে সর্বশ্রেষ্ঠ করে তুলতে হবে, তবেই স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা হবে।
উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ নিয়েও সতর্ক করেন রাষ্ট্রপতি। সাঁওতালি ভাষার একটি গানের প্রসঙ্গ তুলে প্রকৃতির উপর মানুষের অত্যাচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুকিয়ে যাওয়া গাছ দেখে পাখির কষ্ট যেমন অনুভব করতে হয়, তেমনই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হবে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং পরিবেশ—সবকিছুকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে ভারতকে, এদিনের ভাষণে সেই সামগ্রিক বার্তাই উঠে আসে।


