নারী নিরাপত্তাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, শ্লীলতাহানি বা শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধে পুলিশের কোনও রকম দ্বিধায় থাকার প্রয়োজন নেই। আইন যে ক্ষমতা দিয়েছে, তা প্রয়োগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশই দেওয়া হয়েছে বাহিনীকে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনাও। তাঁর দাবি, ওই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপই প্রমাণ করেছে যে বর্তমান সরকার নারী নির্যাতনের ঘটনায় কোনও ধরনের নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে না। ভবিষ্যতেও একই নীতি বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিধানসভার বক্তৃতায় শুভেন্দু একাধিক বহুল আলোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে অনেক ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক মন্তব্যে মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন আইনকেই সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বর্তমান সরকার।
এদিন বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আদালত মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার পরও বহু মামলায় তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এতে অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার উপর জোর দেন শুভেন্দু।
আর জি কর হাসপাতালের ঘটনাতেও সরকার আপস করেনি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ক্ষমতায় আসার পরই সংশ্লিষ্ট ফাইল খোলা হয়েছে এবং তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে নারী সুরক্ষা আরও জোরদার করতে ইতিমধ্যেই ‘দুর্গারক্ষা স্কোয়াড’, মহিলা থানা এবং ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন পরিষেবা চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় আইনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের নীতি।


