ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু তার মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের হস্তান্তরের প্রসঙ্গ জুড়ে দেওয়ায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছিল নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণও পাঠানো হয়। কিন্তু প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে নয়, মালয়েশিয়া ও চিনকে বেছে নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এরপরও দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা স্তরে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। অগস্টের শেষ সপ্তাহ কিংবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে সফরের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সহ কয়েকটি বিষয় সমাধানের পরই সফরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা।
এদিকে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান নিয়ে নজর রাখছে নয়াদিল্লি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভারতকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা বাংলাদেশের পক্ষে সহজ নয়। বাণিজ্য, জ্বালানি, খাদ্য, নদীর জল ও সীমান্ত যোগাযোগ— বহু ক্ষেত্রেই দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
এখন প্রশ্ন, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে কি নতুন করে আস্থা ফিরবে, নাকি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও অনিশ্চয়তার দিকে এগোবে?


