বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কায় তৃণমূল কংগ্রেস যখন কার্যত কোণঠাসা, তখনই অন্য এক ভোটে বড় জয় পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। রাজ্য বার কাউন্সিলের নির্বাচনে ২৩টি আসনের মধ্যে ১৫টিই দখলে নিল তৃণমূল। আর জয়ী ১৫ জনই কালীঘাট শিবিরের বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
ফলে রাজনৈতিক পরাজয়ের পর দলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়েও যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন বার কাউন্সিলের ফলাফল নিঃসন্দেহে মমতা শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে বলেই মনে করছে তৃণমূলের একাংশ।
২৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে এসেছে ১৫টি। বিজেপি পেয়েছে ৩টি আসন। সিপিএমের ঝুলিতে ৩টি এবং কংগ্রেস পেয়েছে ২টি আসন। অর্থাৎ আইনজীবীদের এই নির্বাচনে তৃণমূলের পাল্লাই যথেষ্ট ভারী।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ মহিলা সংরক্ষিত আসনের ফল। নতুন নিয়মে ২৩টি আসনের মধ্যে ৫টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে ৪টিই পেয়েছে তৃণমূল। ফলে শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও কালীঘাট শিবিরের আধিপত্য স্পষ্ট।
তৃণমূলের আইনজীবী সেলের সদস্য সঞ্জয় বর্ধনের দাবি, গত মার্চে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালতে পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের ভোটে বার কাউন্সিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন নিয়মেই এবার ২৩ সদস্যের কাউন্সিলে পাঁচটি মহিলা আসন রাখা হয়েছে। সেই পাঁচটির মধ্যে চারটিতে তৃণমূলের জয়কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে দল।
বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি, ক্ষমতা হারানো এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন—পরপর ধাক্কায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির যখন চাপে, তখন বার কাউন্সিলের ফলাফল যেন কিছুটা স্বস্তির হাওয়া। যদিও একটি নির্বাচনের ফল দিয়ে রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে, এমনটা বলার সময় এখনও আসেনি।
তবু প্রশ্ন উঠছে—ভোটের ময়দানে বড় ধাক্কার পর এবার কি ধীরে ধীরে নিজেদের জমি পুনরুদ্ধারের লড়াই শুরু করছে কালীঘাট? বার কাউন্সিলের এই ফলাফল সেই সম্ভাবনারই কি প্রথম ইঙ্গিত? রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা এই নিয়েই।


