রাষ্ট্রপতি ভবনে শুক্রবার আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ছয় দেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধির কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বার্তাও উঠে এসেছে অনুষ্ঠানের পরবর্তী আলোচনায়।
রাষ্ট্রপতির দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, পরিচয়পত্র পেশ করেন ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিক্কো কিভিকোস্কি, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ত্রিন মিন মানহ, মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত পেদ্রো ব্লাঙ্কো পেরেজ, এস্তোনিয়ার রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টি কারেলসন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-এরিক পাকে এবং বেলজিয়ামের রাষ্ট্রদূত সোফি কার্লশাউসেন।
অনুষ্ঠানের পর ইইউ রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-এরিক পাকে ভারত-ইইউ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অংশীদারিত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দুই পক্ষের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ইইউ জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় কমিশন ভারত-ইইউ ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর ও চূড়ান্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ইইউর তরফে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই সংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গত কয়েক বছরে দুই পক্ষের সহযোগিতা বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মহাকাশ, সাইবার ও হাইব্রিড হুমকি এবং সন্ত্রাস দমনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ইইউর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত-ইইউ যৌথ কৌশলগত কর্মসূচি, ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিল, কানেক্টিভিটি পার্টনারশিপ এবং গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের মাধ্যমেও সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করা, টেকসই উন্নয়ন এবং পণ্য, পরিষেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এই উদ্যোগগুলির অন্যতম লক্ষ্য।
জ্যঁ-এরিক পাকে এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জাপানে ইইউ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি কাজ করেছেন। নতুন দায়িত্বে তাঁর যোগদানের সময় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ চলছে।


