অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির তদন্তে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের রিপোর্টে দাবি, মন্দিরের গণনাকক্ষে এক-দু’বার নয়, ১০০ বারেরও বেশি চুরির ঘটনা CCTV ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে CCTV ফুটেজের পাশাপাশি মোবাইলের চ্যাট, কল রেকর্ড এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের নথিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্তে সবচেয়ে বেশি বার যার নাম উঠে এসেছে, তিনি অবিনাশ শুক্ল। তদন্তকারীদের দাবি, CCTV ফুটেজে তাঁকে ৮৫ বার গণনাকক্ষ থেকে প্রণামীর টাকা ও অলঙ্কার সরাতে দেখা গিয়েছে। করুণেশ পাণ্ডের বিরুদ্ধেও সরাসরি দু’বার টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর ভূমিকা শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অন্য অভিযুক্তদের চুরিতে সহযোগিতা করার দৃশ্যও ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
লভকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্রের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের হাতে এমন ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের প্রণামী সরানোর পাশাপাশি অন্যদের সাহায্য করতেও দেখা গিয়েছে।
তদন্তের পরিধি শুধু CCTV-তেই থেমে থাকেনি। আট অভিযুক্তের মোবাইল চ্যাট এবং কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে সেই ডিজিটাল প্রমাণও যুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
কী ভাবে মন্দিরের গণনাকক্ষ থেকে টাকা বাইরে সরানো হত, তারও হদিস মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গণনাকক্ষ থেকে সরানো টাকা শৌচালয়ে রাখা হত। সেই সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, ডলার এবং গয়না উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চুরির টাকা কোথায় গিয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরও বিস্ফোরক তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, ওই টাকা দিয়ে অভিযুক্তদের কেউ গাড়ি, কেউ বাড়ি, আবার কেউ জমি কিনেছিলেন। অনুকল্পের বিরুদ্ধে তাঁর বাবার নামে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। লভকুশের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা খরচ করে জমি-বাড়ি কেনার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়ার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ৭ জুন। রামমন্দিরের প্রণামী চুরির অভিযোগ সামনে আসতেই শুরু হয় তীব্র আলোড়ন। এরপর উত্তরপ্রদেশ সরকারের নির্দেশে তদন্তে নামে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT।
পরবর্তী সময়ে SIT-এর গঠন নিয়েও পরিবর্তন আসে। ২০ জুলাই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ তদন্তকারী দলে পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। এরপর ২৬ জুলাই লখনউ রেঞ্জের IG কিরণ এস-কে SIT-এর প্রধান করা হয়। দলে রয়েছেন অযোধ্যার DIG সোমেন বর্মা এবং SSP গৌরব গ্রোভারও।
CCTV থেকে মোবাইল চ্যাট, ব্যাঙ্কের লেনদেন থেকে সম্পত্তির হিসাব—রামমন্দিরের প্রণামী চুরির তদন্তে একাধিক স্তরের তথ্য এখন পুলিশের হাতে।


