EXCLUSIVE: SIR কি আদৌ কার্যকর? ভোটার তালিকায় ‘বেনোজল’ নিয়ে হাবড়ায় বিস্ফোরক অভিযোগ

Spread the love

 

EXCLUSIVE

হাবড়া, উত্তর ২৪ পরগনা:

রাজ্যে যখন স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার দাবি করা হচ্ছে, ঠিক সেই সময় উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থানা এলাকার ২ নম্বর মছলন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকান্ত পল্লী থেকে উঠে এল গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে এক পঞ্চায়েত সদস্যের পরিবার এবং ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকের নাম থাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুকান্ত পল্লীর বাসিন্দা উত্তম বালা মছলন্দপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। পেশায় তিনি প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক। তাঁর দুই ভাই তরুণ বালা ও সুব্রত বালা এবং এক বিবাহিতা বোন রয়েছেন—বিউটি মণ্ডল। জানা গেছে, তরুণ বালা চলতি বছরে BLO (বুথ লেভেল অফিসার) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি হাবড়ার শ্রীনগর সম্মিলনী প্রাথমিক বিদ্যালয়( বানি পুর সার্কেল) এর শিক্ষক।

 

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিউটি মণ্ডল বর্তমানে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক এবং সেখানকার ভোটার। তাঁর বাংলাদেশের ভোটার আইডি কার্ড নম্বর 1480751500। SIR চলাকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশেই অবস্থান করছিলেন বলে দাবি। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম ভারতের ভোটার তালিকায় রয়েছে। ভারতের ভোটার তালিকায় তাঁর আইডি নম্বর ALD1478080, হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্র ১০০ এবং অংশ নম্বর ১১৩। SIR শেষ হওয়ার পরেও ওই নাম বাদ না পড়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, তরুণ বালা BLO হওয়ার সুযোগে বোনের নাম ভোটার তালিকায় বহাল থেকে গেছে। এই অভিযোগ আরও জোরালো হয় তরুণ বালার বক্তব্যে। তাঁকে ভাই-বোনের সংখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা তিন ভাই। আমার কোনো বোন আছে বলে আমার কাছে কোনো ইনফরমেশন নেই।” এই কথা বলেই তিনি চলে যান। তবে পরে উত্তম বালার বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী জানান, “উত্তম বাবুরা তিন ভাই এক বোন। বোনের নাম বিউটি মণ্ডল। বিউটির স্বামীর নাম দুলাল মণ্ডল।”

 

আরও অভিযোগ, বিউটির স্বামী বাংলাদেশের গোপালগঞ্জেই বসবাস করেন। উত্তমদের মা নিলু বালা কখনও বাংলাদেশে, কখনও ভারতে থাকেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, তিন ভাই মাত্র কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসে কীভাবে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকতার চাকরি পেলেন। তবে বালা পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

 

এ বিষয়ে মছলন্দপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিরিষ বিশ্বাস বলেন,

“উত্তম আমার পঞ্চায়েতের সদস্য। ওদের পারিবারিক বিষয় সম্পর্কে আমি বিশদ জানি না। তবে বিষয়টি নিয়ে উত্তমকে জিজ্ঞাসা করব। ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের বিষয়, এ নিয়ে আমার কোনও মতামত নেই।”

 

এই ঘটনায় BLO-দের ভূমিকা, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং SIR প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ইতি মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ হয়েছে ।নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের তদন্ত করে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষের।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *