রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা থামছেই না। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— একের পর এক ঘটনায় উত্তপ্ত রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে ফের ‘ডিম-রাজনীতি’ নিয়ে কড়া অবস্থান জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, প্রতিবাদের এই পদ্ধতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে দেশের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মঙ্গলবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বিজেপির শিক্ষক সেলের সমাবেশে যোগ দেন শমীক ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মনও। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক বলেন, “ডিম ছোড়ার সংস্কৃতি চলতে থাকলে দেশের সামনে চুনকালি পড়বে।” তিনি জানান, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত নয় যাতে গণতান্ত্রিক পরিবেশই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই অবিলম্বে এই ধরনের ঘটনা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও আবেদন জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ডিম ছোড়ার ঘটনাকে ঘিরে এর আগেও প্রকাশ্যে মত জানিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তখনও তিনি বলেছিলেন, ডিম নিক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক দলের সুস্থ কর্মসূচি হতে পারে না। সেই অবস্থানেই এদিনও অনড় থাকলেন তিনি।
এই ইস্যুতে আগেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাজেটে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং এক লক্ষ চাকরির ঘোষণা বিরোধীদের যথেষ্ট জবাব। অকারণে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনাকে সাধারণ মানুষও সমর্থন করছেন না বলেই দাবি করেছিলেন তিনি। তবে সেই বার্তার পরেও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ডিম নিক্ষেপের ঘটনা অব্যাহত থাকায় ফের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
এদিন রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও তোলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং জনসাধারণের অর্থ বিপুল পরিমাণে আইনজীবী নিয়োগে ব্যয় করা হয়েছে। মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রী দীপক বর্মনের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোন দপ্তর আইনজীবীদের পিছনে কত টাকা খরচ করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করে একটি শ্বেতপত্র আনা উচিত। তাঁর দাবি, এতে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং মানুষের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।


