নিট ইস্যু ঘিরে দেশজুড়ে যখন তুমুল বিতর্ক, ঠিক সেই সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল একটি ভাইরাল পোস্ট। বলিউড অভিনেত্রী তথা মাণ্ডির সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের নামে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এমন একটি বার্তা, যেখানে দাবি করা হয়—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দেশের পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় জোর চর্চা।
ভাইরাল পোস্টে লেখা ছিল, শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তিনি সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং তাঁকেই দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা উচিত। এমনকি সেখানে মজার ছলে দাবি করা হয়, নিট পরীক্ষার্থীরা যদি হলে গিয়ে কঙ্গনার ছবি দেখেন, তাহলে অতিরিক্ত নম্বরও পাবেন! পোস্টের ভাষা ও উপস্থাপনা এতটাই বিশ্বাসযোগ্য ছিল যে বহু নেটিজেন সেটিকে সত্যি বলে ধরে নিয়ে অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতেও শুরু করেন।
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, পুরো বিষয়টাই এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ভুয়ো পোস্ট। কঙ্গনা রানাউতের পক্ষ থেকে এমন কোনও আবেদন করা হয়নি। বিভ্রান্তিকর এই পোস্ট আবারও দেখিয়ে দিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার কত সহজে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কঙ্গনা। ইনস্টাগ্রামে আন্দোলনের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, জীবনে এত অশালীন ও কুরুচিকর আচরণ তিনি আগে দেখেননি। আন্দোলনকারীদের ভাষা ও আচরণের কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, কারা তাঁদের এমনভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন।
পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আরও তীব্র ভাষায় আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, যারা নিজেদের ‘আরশোলা’ বলে পরিচয় দিচ্ছে, তাদের আচরণও ঠিক তেমনই। একইসঙ্গে বিরোধী দল সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করেন মাণ্ডির সাংসদ।
উল্লেখ্য, ছাত্র আন্দোলনে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিনেতা অনুপম খেরও। তাঁর মতে, প্রতিবাদের অধিকার সবার থাকলেও ভাষা ও আচরণে সংযম বজায় রাখা জরুরি। এদিকে এআই-নির্মিত ভুয়ো পোস্ট ঘিরে নতুন করে ভুয়ো তথ্য এবং ডিজিটাল বিভ্রান্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


