প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বহুল আলোচিত ভিডিও হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ফের ফিরিয়ে আনলেও, এই ঘটনাকে ঘিরে মেটার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ঘটনার ব্যাখ্যা চাইতে মেটার শীর্ষ আধিকারিকদের তলব করেছে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক।
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশবাসীর উদ্দেশে গভীর রাতে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটির ভিউ ২৭১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। প্রায় দেড় কোটি লাইক এবং ১৩ লক্ষেরও বেশি মন্তব্য পড়ে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফলোয়ার সংখ্যাও ১০১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১০২ মিলিয়নে পৌঁছে যায়। বিশ্বের রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটির বেশি অনুসরণকারী থাকা একমাত্র নেতা নরেন্দ্র মোদি।
কিন্তু এত জনপ্রিয় একটি ভিডিও মঙ্গলবার সকালে আচমকাই ইনস্টাগ্রাম থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই শুরু হয় জোর বিতর্ক। পরে মেটার তরফে জানানো হয়, এটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভুলবশত ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুল বুঝতে পেরেই ভিডিওটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এই অনিচ্ছাকৃত ঘটনার জন্য তারা দুঃখিত।
যদিও মেটার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হল, তা জানতে মেটা ও ইনস্টাগ্রামের আন্তর্জাতিক কর্তাদের সমন পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার রিপোর্টও তলব করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেটার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। দলের বক্তব্য, কোনও বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন, সেই সিদ্ধান্ত বিদেশি প্ল্যাটফর্মের হাতে থাকা উচিত নয় বলেও প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির।


