প্রায় দু’দশক পর কলকাতায় ফিরে আবেগ, অভিমান এবং আশার বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকলেও মানবিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, বাকস্বাধীনতা ও নারী-পুরুষের সমানাধিকারের প্রতি তাঁর বিশ্বাস একটুও টলেনি।
বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তসলিমা বলেন, মুক্তচিন্তার পক্ষে দাঁড়ানো বহু লেখক-চিন্তককে হত্যা করা হয়েছে শুধুমাত্র প্রশ্ন তোলার অপরাধে। তাঁর কথায়, “প্রশ্নকে হত্যা করা যায় না। প্রশ্নকারীকে হত্যা করলে আরও বহু প্রশ্নকারী ফিরে আসে।”
বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, বিশ্বাসের স্বাধীনতার পাশাপাশি অবিশ্বাসের স্বাধীনতাও থাকতে হবে। রাষ্ট্র ও ধর্মকে পৃথক রাখার উপর জোর দিয়ে তাঁর আশা, একদিন বাংলাদেশেও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, নারী-পুরুষ সমানাধিকার পাবে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও মুক্তচিন্তকেরা নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবেন।
কলকাতার প্রসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে তসলিমা বলেন, এই শহরের প্রতি অভিমান থাকলেও ভালোবাসা কখনও কমেনি। তাঁর কথায়, “ঘর কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা কেড়ে নিতে পারেনি। মানচিত্র নয়, মানুষের ভালোবাসাই আমার দেশ।” প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।


