মোদীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ ঘিরে বিতর্ক, ‘টেলিপ্রম্পটারহীন’ বলে খোঁচা কংগ্রেসের

Spread the love

লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ শেষ হতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। প্রায় ৭৫ মিনিটের বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, তরুণ প্রজন্ম ও উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরলেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েকটি মুহূর্ত নিয়েই সরব বিরোধীরা।

ভাষণের মাঝপথে কয়েকবার থামতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদীকে। বিশেষ করে জৈবঅর্থনীতি নিয়ে তথ্য দেওয়ার সময় আচমকাই কয়েক সেকেন্ডের বিরতি নেন তিনি। পরে বৈদ্যুতিন গাড়ির বিক্রির হিসাব বলতে গিয়ে প্রথমে ভুল সংখ্যা উল্লেখ করেন। ২০০৯-১০ সালে ২৫ লক্ষ গাড়ি বিক্রির কথা বলার পরই নিজের বক্তব্য সংশোধন করে জানান, প্রকৃত সংখ্যা ছিল দেড় লক্ষ।

এই ঘটনাগুলির ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শুরু করে বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা ‘টেলিপ্রম্পটার’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেন। আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালও মোদীর বক্তব্যের ওই অংশ শেয়ার করে তাঁর আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

যদিও বিরোধীদের আক্রমণের পাশাপাশি এ দিনের ভাষণে একাধিক বড় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম মেধা, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিন গাড়ি, তরুণদের ভূমিকা এবং দেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নানা পরিকল্পনার কথা। একই সঙ্গে মাওবাদ নির্মূলের লড়াই নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পোশাক নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কটাক্ষ। কোটের পকেটে থাকা সবুজ, সাদা ও কমলা রঙের রুমালের ছবি তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দাবি করেন, তা ভারতের বদলে আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা দিবসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্যের মূল বার্তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এখন তাঁর ভাষণের ভুল পরিসংখ্যান, থেমে যাওয়া এবং পোশাক—তিনটিই পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন হাতিয়ারে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *