‘শক’-এর শুটিংয়ে অন্তঃসত্ত্বা পরিণীতি, মা না হওয়াটাই ছিল আশীর্বাদ!

Spread the love

ওয়েব সিরিজে ডেবিউ করেছেন পরিণীতি চোপড়া। আর সেই প্রথম কাজের অভিজ্ঞতার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে এক গভীর আবেগের অধ্যায়। ‘শক’ সিরিজে এমন এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, যার সদ্যোজাত সন্তান অপহৃত হওয়ার পর বছরের পর বছর ধরে তাকে খুঁজে বেড়াতে হয়। আশ্চর্যের বিষয়, এই কঠিন চরিত্রে অভিনয়ের সময় নিজের জীবনেও মাতৃত্বের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল পরিণীতির।

শুটিংয়ের সময় পরিণীতি ছিলেন নিজের গর্ভাবস্থার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। সেই সময় তিনি নিজেই বুঝতে পারেননি, একজন মায়ের সন্তানের প্রতি আবেগ এবং মাতৃত্বের অনুভূতি কতটা গভীর হতে পারে। পরে নিজের সন্তান হওয়ার পর সেই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব আরও বেশি করে উপলব্ধি করেছেন অভিনেত্রী।

পরিণীতির কথায়, শুটিংয়ের সময় তিনি মা না হওয়ায় কিছুটা সুবিধাই হয়েছিল। কারণ, যদি তখন তিনি সদ্য মা হয়ে যেতেন, তাহলে সিরিজের গল্পে সন্তানের হারিয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা নিজের জীবনের সঙ্গে মিশে যেত। সেক্ষেত্রে প্রতিটি দৃশ্যে আবেগ সামলে অভিনয় করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠত।

সন্তান হারানোর ভাবনাটাই যে কতটা অসহনীয়, তা নিয়েও নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন পরিণীতি। তাঁর মতে, একজন মা হিসেবে সেই পরিস্থিতিকে কল্পনা করাও অত্যন্ত কষ্টকর। ফলে চরিত্রটির যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে বাস্তব জীবনের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা থাকলে হয়তো অভিনয়ের প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হত না।

২০২৫ সালের অক্টোবরে পুত্রসন্তান নীরের জন্মের পর অবশ্য মাতৃত্ব সম্পর্কে পরিণীতির দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বদলেছে। অভিনেত্রীর মতে, আজ যদি তাঁকে একই ধরনের কোনও চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তিনি আরও শক্তভাবে সেই চরিত্রের আবেগকে সামলাতে পারবেন। কারণ এখন তিনি নিজেই একজন মা এবং নিজের জীবনে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

২০২৩ সালে রাজনীতিক রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পরিণীতি। ২০২৫ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান নীরের জন্ম হয়। ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তন তাঁর অভিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অভিনেত্রী।

‘শক’-এ পরিণীতির সঙ্গে রয়েছেন জেনিফার উইঙ্গেট, তাহির রাজ ভাসিন, সোনি রাজদান, সুমীত ব্যাস, হারলিন শেঠি, অনুপ সোনি এবং ধ্রুব চৌধুরী। সিদ্ধার্থ পি. মালহোত্রা নির্মিত এবং রেনসিল ডি’সিলভা পরিচালিত এই সিরিজে এক মায়ের সন্তান-সন্ধানের দীর্ঘ ও অন্ধকার যাত্রাই গল্পের মূল কেন্দ্র। ২৪ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটি।

পরিণীতির জন্য ‘শক’ শুধু ওয়েব দুনিয়ায় পা রাখার প্রথম পদক্ষেপ নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ অভিনয়-অভিজ্ঞতা।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *