জেল থেকে মুক্তি মিলেছে অনেকদিন। কিন্তু তৃণমূলে আর ফেরা হয়নি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee)। দীর্ঘ নীরবতার পর রবিবার সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলতেই ফের তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। কারণ, পাকিস্তানি জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিজেপির দিকে এগোচ্ছেন পার্থ?
ফেসবুকে পার্থ লেখেন, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাফেরা, কর্মসূচি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছিল। তাঁর কথায়, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্কবার্তা। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পাকিস্তানি জঙ্গিদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের সবরকম চেষ্টা করতে হবে। মৌলবাদী শক্তির কাছে মাথা নোয়ানো চলবে না। জিরো টলারেন্স এবং কুইক অ্যাকশন নিতে হবে।”
একসময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের অন্যতম ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় ধাক্কা লাগে। মন্ত্রিত্ব তো বটেই, তৃণমূল থেকেও বহিষ্কৃত হন তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পেলেও এখনও দল তাঁকে ফিরিয়ে নেয়নি।
এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাসূচক সুরে নিরাপত্তার দাবি তোলায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের একাংশের দাবি, এটি বিজেপির প্রতি পার্থর ‘সফট সিগন্যাল’ হতে পারে। যদিও তিনি নিজে বা বিজেপির তরফে এমন কোনও সম্ভাবনার কথা স্বীকার করা হয়নি। ফলে পার্থর এই পোস্ট নিছক উদ্বেগ, নাকি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত—সেই উত্তর আপাতত সময়ই দেবে।


