একসময় একই রাজনৈতিক পরিবারের সহযোদ্ধা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচবারের বিধায়ক থেকে মন্ত্রী, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার—রাজনীতির দীর্ঘ ইনিংসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন রামপুরহাটের এই প্রবীণ নেতা। রবিবার তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে রামপুরহাটে পরাজয়ের পর শিবির বদলেছিলেন আশিস। কিন্তু রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলেও মমতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছেদ ঘটেনি। প্রাক্তন সতীর্থের মৃত্যুর খবর পেয়ে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যান তৃণমূলনেত্রী। পরে সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে আশিসের মৃত্যু নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘রাজনীতির বিষ’ কীভাবে ধীরে ধীরে একজন মানুষকে শেষ করে দিতে পারে, আশিসের মৃত্যু তারই উদাহরণ।
মমতা লেখেন, জীবনের একটা বড় সময় শিক্ষকতা করেছেন আশিস। রামপুরহাট ও গোটা বীরভূমে তিনি ‘মাটির মানুষ’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পাঁচবারের বিধায়ক এবং প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে রামপুরহাটের উন্নয়নে তাঁর অবদানও তুলে ধরেন মমতা। তাঁর দাবি, এত কাজের পরেও আশিসকে বারবার হেনস্তা ও অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে। শেষ জীবনে তাঁকে প্রবল মানসিক চাপের মধ্যেও থাকতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ২০২৬-এর ভোটে রামপুরহাট আসনটি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন আশিস। ভোটের পর কলকাতা যাওয়ার পথে বর্ধমানের কাছে তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগও উঠেছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে কটূক্তি ও অপমানের অভিযোগ করেছিলেন তাঁর অনুগামীরা। এমনকী এক বিজেপি মণ্ডল সভাপতির ‘বয়স না হলে চাবকে দেখিয়ে দিতাম’ মন্তব্যও সামনে এসেছিল।
সরাসরি কোনও ঘটনার নাম না করলেও মমতার পোস্টে সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক হেনস্তার প্রসঙ্গই উঠে এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘদিনের সতীর্থকে হারিয়ে তাঁর বার্তা তাই শুধু শোকবার্তা নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও এক তীব্র প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।


